Unsorted Thoughts

Syeda Nowshin Ibnat
3 min readDec 4, 2022

আমার গল্প দিয়ে শুরু করলাম…

সেমিস্টার-৬ এ পড়ি তখন। হঠাৎ এমনভাবে অসুস্থ হবো কখনও ভাবিনি। এপ্রিল, ২০২০ প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি হলাম। ছয়দিন থাকার পরে রিলিজ পেয়ে বাসায় আসলাম।

বাসায় আসার সাত দিনের মাথায় দ্বিতীয়বার আবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগলো।

প্রথমবার তেমন ভয় পাইনি, বাসায় আসার ৩/৪ দিন পরে নরমাল লাইফে ফিরে আসার চেষ্টায় ছিলাম। দ্বিতীয়বার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। সমস্যা — Acute Pencretities (তীব্র অগ্ন্যাশয় প্রদাহ)। এইটা যাদের হয় শুধু তারাই বুঝে কেমন খারাপ হয় অবস্থা। কোন কিছু খাওয়া যায়না…একগ্লাস পানি পর্যন্ত না। কারণ পেটে মারাত্মক ব্যথা হয় অনবরত। না শুয়ে থাকা যায়, না বসে থাকা যায়। আমার Acute Pencretities হওয়ার কারন: RDW হয়ে গিয়েছিল 30000/cumm (normal: 4000–11000/cumm), যা কিনা অনেক!

দ্বিতীয়বার দুইদিন ICU তে ছিলাম, তখন শুধু নিজেকে প্রশ্ন করতাম আবার কি নরমাল জীবন-যাপন করতে পারবো? সবকিছু আবার আগের মতই করতে পারবো তো? দশ-বারো দিন পরে বাসায় এসেছিলাম। ছয় মাসের জন্য অনেক কঠিন ডায়েট করা লাগলো। প্রথম কয়েক মাস এতো মেডিসিন খাওয়া লাগতো যে মনে হতো খাবারের থেকে মেডিসিন বেশি খাই। এতদিন পরে এখনও একটা মেডিসিন খাওয়া লাগে আমাকে…হয়তো সারাজীবন খাওয়া লাগবে। যাইহোক, আমার গল্প আর না বড় করি।

“I want to eat your pancreas” anime movie poster

“I want to eat your pencrease” এর সাথে কোন মিল না থাকলেও যখন আমি এই anime movie টা দেখেছিলাম, তখন ফিল করেছিলাম এতও অমিল থাকার পরেও কিছু জিনিস রিলেটেবল ছিলো। Main character ‘Sakura Yamauchi’ এর Pancreatic Cancer ছিলো, যা কিনা আরও ভয়াবহ। Acute Pencretities সেভেরাল টাইমস হলে একটা সময় Chronic Pencretities হওয়ার চান্স থাকে অনেক। আর Chronic Pencretities হলে দৈনন্দিন কাজ করাটা অনেক কঠিন। Chronic Pencretities যাদের হয় তাদের মধ্যে কিছু মানুষের Pancreatic Cancer হয়। এই film এ দেখানো কিছু জিনিস আমার ভালো লাগেনি। কিছু সিনে দেখানো হয় Sakura ইচ্ছামত খাচ্ছে, বিশেষ করে organ meats (Pancreas এর সমস্যা থাকলে একদম খাওয়া উচিত না)। এই ব্যপারটা Pencretities এ আক্রান্ত কেউ নিজের লাইফে প্রয়োগ করলে সমস্যা। Sakura চেয়েছিলো মারা যাওয়ার আগে সবার মত নরমাল জীবন-যাপন করতে, এইজন্যই হয়তো এই সিনগুলো ছিলো।

Facing serious disease as a young person can be overwhelming (এইজন্যও হয়তো Sakura এমন করেছিলো)। তবে একটা ব্যাপার সত্য যে- This project is a great way to spread awareness about illnesses facing young adults like the anime’s heroine, me, or thousands of people across the country and around the world (এইজন্যই বললাম রিলেটেবল কিছু জিনিস ছিলো)। সবথেকে বড় কথা এই মুভিটা একটা মেসেজ দেয় যে “যে কেউ যে কোনও সময় এবং যে কোনও জায়গায় মারা যেতে পারে”।এইজন্য হয়তো গল্পের শেষটা অন্যরকম রেখেছেন লেখক।

কিছু ডায়ালগ-

  • Every day is worth the same as any other. What I did or didn’t do today doesn’t change its worth.
  • Everyone is where they are because of the choices they’ve made.
  • I saw how you were just yourself, without needing anyone to define you or be around you. I wanted to be like that, too.
  • Living…… Means having bonds with others. Paying attention to someone. Loving someone. Hating someone. Having fun being with someone. Taking someone’s hand. That’s what it means to live. If you’re all alone, you cant tell that you exist. Your relationship with others, is what defines being alive. I know my mind exists, since I can interact with others. I know my body exists, because others touch me. That’s where the purpose of being alive comes from. Just like we’ve been chosen to live out this moment here and now.

হসপিটালে থাকা অবস্থায় কিছু জিনিস আরও ভালো করে বুঝতে পেরেছি-

  • সুস্থতা আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে দেয়া সবথেকে বড় নেয়ামত। অসুস্থ না হলে আমরা তা বুঝিনা।
  • অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা মানুষ গুলো দুনিয়ায় সবথেকে অসহায় মানুষ।
  • জিবনে কিছু জিনিস ভালোর জন্যই ঘটে, আমরা প্রথমে তা বুঝিনা।
  • অনেক সময় সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে নিজের জিবনের চাওয়া পাওয়া গুলো হারিয়ে যায়। থেমে একটু দেখা দরকার আমি নিজের লক্ষে পৌঁছাতে কি করেছি, কি করছি আর কি করবো।
  • Early 20’s থেকেই আমাদের নিজের প্রতি আরও যত্নবান হওয়া উচিৎ। অন্যরা যা আজকে এচিভ করতে পারছে আমি হয়তো তা আরও কিছু সময় পরে করতে পারবো। যদি কোনো কিছু অর্জন করার প্রবল আগ্রহ থাকে এবং ইনটেনশন ভালো থাকে তাহলে আল্লাহ কোন না কোন পথ দেখাবেন।

--

--